মালদা

যন্ত্রণা চলছেই মেডিক্যাল কলেজে, জুনিয়র ডাক্তারদের পাল্টা অভিযোগ, সাসপেন্ড হলেন আহত হাউস-স্টাফ

জুনিয়র চিকিৎসকদের সাথে এক সিনিয়র হাউস-স্টাফের হাতাহাতি হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পরেও টানটান উত্তেজনা রইলো মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সিনিয়র চিকিৎসক বলে পরিচয় দেওয়া ওই হাউস-স্টাফ ভুয়ো ডিগ্রী ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। এদিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটির পেশ করা রিপোর্ট পেয়ে হাউস-স্টাফ ডাঃ মহম্মদ আখতারুজ্জামানকে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত সাসপেণ্ড করলো মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

            মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডাঃ প্রতীপ কুণ্ডুর সাথে বুধবার দেখা করেন প্রহৃত হাউস-স্টাফের পরিবারের লোকেরা। তাদের অভিযোগ, হাসপাতাল চত্বরে জুনিয়র ডাক্তারদের চরম উশৃংখল আচরণের কারণেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অধ্যক্ষকে পুরো বিষয়টি নিয়ে রাশ টানার অনুরোধও জানান তারা। এদিকে অধ্যক্ষের ঘরে ওই হাউস-স্টাফের বাবা মহম্মদ মহিদুল ইসলাম এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজনরা দেখা করার আগে তাদের সাথে ফের বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ।

            আহত হাউস-স্টাফের আত্মীয়রা বেরিয়ে যেতেই অধ্যক্ষের ঘরে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়েন জুনিয়র ডাক্তাররা। তাদের অভিযোগ, মিথ্যে অভিযোগ করছেন ডাঃ আখতারুজ্জামান। ঘটনার দিন তিনি নিজেই এক বহিরাগতকে নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন জুনিয়র ডাক্তারদের কোয়ার্টারে। সেখানে তিনিই নিজেকে স্থানীয় বলে দাবী করে প্রথম হাত চালান। সেই মুহূর্তে তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থাতেও ছিলেন বলে অভিযোগ জুনিয়র ডাক্তারদের। ডাঃ দীপাঞ্জন মন্ডল বলেন, তিনি নিজে এবং ডাঃ সুদীপ ভড় ও ডাঃ অম্লান ভট্টাচার্য আহত হন ডাঃ আখতারুজ্জামানের আক্রমণে। পুরো ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগও তারা তোলেন ওই হাউস-স্টাফের বিরুদ্ধে। পুরো বিষয়টি ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে বলে দাবী জুনিয়র ডাক্তারদের।

            মালদা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ এদিন সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পরেই একটি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দিয়েছে। আমরা সেই রিপোর্ট নিয়ে আজকেই কলেজের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করি। তাতে সিদ্ধান্ত হয়েছে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাসপেন্ড করা হলো ডাঃ আখতারুজ্জামানকে।

            ডাঃ প্রতীপ কুণ্ডু বলেন, ডাঃ আখতারুজ্জামান সেদিন তার ড্রাইভারকে নিয়ে নীতিবহির্ভূত ভাবে জুনিয়র ডাক্তারদের কোয়ার্টারে ঢুকেছিলেন। অভিযোগ থাকলে আমাকে বা ভাইস প্রিন্সিপালকে জানাতে পারতেন। কিন্তু তা তিনি করেন নি। এছাড়াও একজন হাউস-স্টাফ দুই বছরের বেশি একই জায়গায় কাজ করতে পারেন না। সেইজন্যই তাকে আপাততঃ সাসপেণ্ড করা হয়েছে।

            অন্যদিকে জুনিয়র ডাক্তারদের অভিযোগ, রাশিয়া থেকে যে ডিগ্রী নিয়ে এসেছেন ডাঃ আখতারুজ্জামান তা ভারতের এমবিবিএস ডিগ্রীর সমতুল্য। কিন্তু তিনি নিজেকে কোথাও এমডি (ফিজিশিয়ান), কোথাও বা এমডি (নিউরোলজি) বলে দাবী করে বিভ্রান্ত করছেন রুগীদের।

            বিষয়টি তার স্পষ্টভাবে জানা নেই বলে মন্তব্য করেছেন মালদা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ। অন্যদিকে ডাঃ আখতারুজ্জামানের পরিবারের দাবী রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে আইনসংগতভাবেই চিকিৎসা করছেন তিনি। সব মিলিয়ে চরম বিশৃংখলা মেডিক্যাল কলেজে।